গুটখা সংস্কৃতি বন্ধ বাংলায়, করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যে বন্ধ গুটখা ক্রয়, মজুত, সেবন

0
185

৩৬৫ দিন। বাংলায় গোটা রাজ্য জুড়ে সমস্ত ধরনের গুটখা এবং পানমশলা বিক্রি এবং সেবন করা নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হলো। নবান্ন থেকে জারি করা সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে গুটখা, পানমশলার মতো তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন, বিক্রি, সংরক্ষণ, সেবন নিষিদ্ধ হবে। এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। রাস্তাঘাটে অনেককেই দেখা যায় গুটখা বা পান মশলা খেলে যত্রতত্র থুতু ফেলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যালাইভা বা লালারসের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়ায়। এর মধ্যে শুধু করোনা নয়, বিভিন্ন ভাইরাস থাকতে পারে। লালারসের মধ্যে এই ধরনের ভাইরাস প্রায় ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে হলে, প্রত্যেক নাগরিককেও সমান সচেতন ও দায়িত্ববান হতে হবে।

- Advertisement -

বাংলায় ভাজপার গুটখা সংস্কৃতি

গুটখা এবং পান মশলা নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার হলেও বাংলার রাজনীতিতে গুটখা সংস্কৃতি বলতে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বহিরাগত ভাজপা নেতারা যেভাবে বিহার এবং উত্তর প্রদেশ থেকে বহিরাগতদের নিয়ে এসেছিলেন, তারাই রাজনৈতিক পরিভাষায় গুটখাখোর বলে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ ফুট ২ ইঞ্চির একজন মহিলা। টালির ছাদের নীচে থাকেন। হাওয়াই চটি পরে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করতে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত থেকে নেতাদের টেনে আনতে হচ্ছে। মনে রাখবেন উত্তরপ্রদেশের গুটখার থুতুতে বাংলার লোহায় জং ধরবে না। আবার গত লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল থেকে যে সমস্ত নেতা ভাজপা শিবিরের নাম লিখানোর পরেও সেখানে মোহভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলে ফিরে এসেছেন তাদের সম্পর্কে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, ওরা বিজেপিতে গিয়ে দেখে বলল, অসম্ভব একটা পরিবেশ। সবার মুখে গুটখা ও পান পরাগের গন্ধ। দমবন্ধকর অবস্থা। আর সবাই বলছে, হাম লোগ বিজেপি কা কারিয়াকর্তা হ্যায়, আপকা স্বাগত হ্যায়। একটা অন্য পরিবেশ তারা ছটফট করতে শুরু করলেন। ওনাদের হৃদয়ে জোড়াফুল, হাতে পদ্মফুল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার সবাই চলে এসেছেন। তাই বাংলায় হিন্দি আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে বাংলার রাজনীতিতে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল গুটখা এবং পান মশলা। সেই গুটখা বাংলা জুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কার্যত বাংলা এবং বাঙালির মর্যাদা রক্ষায় মমতা এগিয়ে এলেন বলেই মনে করছে রাজ্যের মানুষ। যার জন্য এই ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সর্বত্র রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here