ক্যাটালান আবেগ সঙ্গে বাচ্চাদের কান্না বার্সিলোনায় আটকে দিল মেসিকে

0

Last Updated on September 6, 2020 9:12 PM by Khabar365Din

আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে যখন বিস্ময়বালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি, তখন গ্রোথ হরমোন সমস্যা দেখা যায় লিও মেসির। পরিবারের সাধ্য ছিল না চিকিৎসা করানোর। তবে বার্সিলোনার স্পটারদের চোখে পড়ে গিয়ে বদলে যায় ইতিহাস। হীরে চিনতে ভুল করেনি বার্সেলোনা। বাচ্চা ছেলেটার চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করে ক্লাব, কিন্তু বিনিময়ে সে চিরকাল বার্সেলোনার জার্সিতে খেলবে কথা আদায় করে নেওয়া হয় বাবার। কোন কাগজের উপরে নয়, রুমালের উপরে লিওনেল মেসির সঙ্গে চুক্তি করে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার আকাদেমি লা মাসিয়ায় তখন রোজ এই বাচ্চাটাকে দেখতে ভিড় উপচে পড়তো। তখন কে জানত এই ছেলেই একদিন বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হবে? তখন কে জানত স্পেন থেকে স্বাধীনতার দাবিতে আওয়াজ তুলতে থাকা কাতালানদের পোস্টার বয় হবেন তিনি? কিন্তু লিওনেল মেসি আর বার্সেলোনা যেন মানিকজোড়। শুধু ফুটবল মাঠে আটকে নয় যাদের সম্পর্ক। বিপ্লবী চে গুয়েভারা যেমন সমগ্র লাতিন আমেরিকাকে একটা ছাতার তলায় আনতে পেরেছিলেন, নিজের ফুটবল দক্ষতায় বার্সিলোনার পরিচয় পৃথিবীর ম্যাপে আরো বড় করে তুলেছেন মেসি। তিনি যেন ফুটবল বিপ্লবী। আসলে গুয়েভারার মত তার জন্ম ও আর্জেন্টিনার রোজারিওতে। সেই কারণেই তো শহরের রাস্তায় চের সাজে মেসির গ্রাফিতি তৈরি করেন ইতালিয়ান শিল্পী। শহরের বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক এর সামনে হাজার হাজার মানুষ চেঁচিয়ে বলতে পারেন,” নো মেসি, নো ফুটবল”। একজন
ফুটবলারকে কোন চোখে দেখা হলে, তাকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে দেখা যায় শহরের মহিলা মেয়রকে। মেসিকে ফেরানোর জন্য ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত মেসির ইচ্ছে অনুযায়ী সরে যেতে রাজি থাকেন। এমন নয় এই ক্লাবে আর কোন বড় ফুটবলার খেলেননি। জহান ক্রুইফ, মারাডোনা, রোনালদিনহো, বড় রোনাল্ডো বিভিন্ন সময় বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। জাবি, ইনিয়েস্তা জুটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনও দাগ কাটে। কিন্তু স্পেনের অন্যতম ধনী রাজ্য বার্সেলোনা মেসি হারালে রিক্ত হয়ে পড়বে। অতীতে পর্তুগালের লুইস ফিগো যখন বার্সেলোনা ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন, তাকে উদ্দেশ্য করে শুয়োরের কাটা মাথা ছুড়ে মারেন দর্শকরা। আসলে নিজেদের নায়কদের হারাতে চায় না বার্সেলোনা। মেসির ক্ষেত্রে ভালোবাসাটা ফিগোর থেকে কয়েক গুণ বেশি। তাই বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আইনি রাস্তায় সুযোগ থাকলেও যেতে চাননি মেসি। যতই ক্লাব সভাপতির ওপর রাগ হোক, যতই আয়কর সমস্যা বেশি হোক বার্সিলোনায়, আর্জেন্টাইন মহাতারকা স্বীকার করেন তার জীবনে এই ক্লাবের অবদান। পাশাপাশি মেসি জানিয়েছেন তার ছেলেরা বার্সেলোনার স্কুলে পড়েন। এই শহরকে তার পরিবারও খুব ভালোবাসে। ফলে বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্তটা টেকনিক্যাল দিক থেকে যদিও বা সঠিক হয়ে থাকে, আবেগের দিক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন। তার তিন ছেলে কাঁদতে শুরু করে বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার কথা শুনে। মেসি নিজেও দেখেছেন তার চলে যাওয়ার খবর শুনে কিভাবে আট থেকে আশি মনমরা হয়ে বসেছিল বার্সিলোনার নু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের বাইরে। তিনি যখন সকালে গাড়ি চালিয়ে প্র্যাকটিসে আসেন, কয়েক হাজার দর্শক লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেন তার সঙ্গে সেলফি তুলবেন বলে। একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য এসব অতীত হয়ে যাবে? নতুন কোচ কমান মেসিকে জানিয়েছিলেন নতুন দলে তাকে আলাদা প্রেফারেন্স দেওয়া হবে না। দলের স্বার্থে যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। মেসির মতো ফুটবলারের পক্ষে কোচের এই বক্তব্য হজম করা কঠিন। ডাচ কোচকে মেসিকে যোগ্য সম্মান দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বার্সিলোনার পক্ষে। হয়তো অনেকে বলবেন কোন উপায় ছিল না বলে আরও একটা বছর থেকে যেতে বাধ্য হলেন মেসি। কথাটা ভুল নয়। কিন্তু এটাও ঠিক বার্সেলোনা যদি একটা সাম্রাজ্য হয়, তবে তিনি সেখানকার অবিসংবাদিত সম্রাট, যার মহিমা স্পেনের উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে চিরকাল অমলিন।

- Advertisement -
Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here