তালিবানরা ভারতীয়দের ছাড়ল
রাশিয়ার হস্তক্ষেপে মুক্তি

0
70

- Advertisement -

সূত্র : আল জাজিরা


৩৬৫ দিন। ভারতীয় দূতাবাস ফাঁকা। দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের বাদ দিয়ে, দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত থেকে সমস্ত কর্মীকে প্রথম দফাতেই দেশে ফেরত নিয়ে এসেছে মোদি সরকার। তাই আজ ব্যাগপত্র গুছিয়ে বিমানবন্দরের দিকে আসা ১১৫ জন ভারতীয়কে যখন তালিবানরা অপহরণ করে তখন তাদের ছাড়ানোর জন্য কেউ ছিলনা। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তালিবানরাই। কিন্তু কাউকে যোগাযোগ করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত রাশিয়া মধ্যস্থতা করে এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান অপহৃতরা। তালিবানদের দাবি, হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতরের অংশের নিরাপত্তার দায়িত্বে যেমন মার্কিন সেনারা রয়েছে তেমন তারা রয়েছে বাইরের নিরাপত্তার দায়িত্বে। যে আফগানরা দেশ ছাড়ার জন্য বিমানবন্দরে আসছে তারা তাদের বুঝিয়ে আবার বাড়ি ফেরত পাঠাচ্ছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কোনরকম বাধা দেওয়া হচ্ছেনা, অপহরণ তো অনেক পরের কথা। তবে অপহরণ করার পর যাত্রী বোঝাই বাসগুলোকে তারা নিয়ে যায় পুল ই চকরিতে। সমস্ত বিদেশি নাগরিকদের তারা আবার বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে। ভারত কেন দূতাবাস সম্পূর্ণ ফাঁকা করে চলে গেল তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কথা উঠেছে। বিশেষ করে, এমন একটা পরিস্থিতিতে অন্য দেশকে কেন এগিয়ে এসে মধ্যস্থতা করতে হলো তা নিয়ে বিশেষ করে কথা হচ্ছে। ওদিকে আফগানিস্থানে আটকে থাকা ৮৫ জনকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যাত্রীবাহী বিমান এ করে দেশে আনা হয়েছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ

তালিবানদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোল্লা আবদুল গনি বরাদার কান্দাহার থেকে আজ সকালে কাবুলে এসে পৌঁছেছেন। তিনি দোহাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গতকাল রাতে এসে পৌঁছান কান্দাহারে। মোল্লা বরাদার এসে পৌঁছানোর পর থেকে সরকার গঠনের জল্পনা শুরু হয়েছে সমস্ত স্তরে। প্রথমত কান্দাহার তালিবানদের হেডকোয়ার্টার্স। এই নবগঠিত ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হবে না কান্দাহারে, তা নিয়ে জল্পনা উঠেছে তুঙ্গে। দোহাতে বরাদারের সঙ্গে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের বৈঠক হয়। তাই রাজনৈতিক মহলের অনুমান, নতুন যে সরকার গঠন হবে তাতে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আমলাদের নেওয়া হতে পারে। তবে কবে মন্ত্রিসভা গঠন হবে বা প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন তার কোনও সময়সীমা দেয়নি তালিবানরা। কাবুল দখল নেওয়ার পরেই তালিবানরা যে ক্ষমার কথা বলে সরকারি কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিল আজ দেখা গেল ঘটলো উল্টোটা। যে সরকারি কর্মীরা কাজে যোগ দিতে এসেছিলেন তাদের আটকে দিল বন্দুকধারী প্রহরারত তালেবান জঙ্গিরা। তারা কার্যত নিজেরাই সর্বত্র কারফিউ ঘোষণা করেছে।

প্রতিরোধ শুরু

পঞ্জশিরের দখল নিতে পারিনি তালিবানরা। এবার উত্তর বাঘলামের পোল ই হেসার, দেহ সাল্লাহ ও কুয়াসানের মানুষ তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলল। তালিবানদের পতাকা এখানে আগেই নামানো ছিল। এবার সেখানে উড়িয়ে দেওয়া হল আফগানিস্তানের পতাকা। তালিবানদের গুলির প্রত্তু্ত্তর দেয় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ৪০ জন তালিবানের মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের দাবি। আরও ১৫ জনকে ওরা ঘায়েল করেছে গুরুতরভাবে। আশরাফ গনি সরকারের উপরাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ সালেহ পঞ্জশিরের বাসিন্দা। নর্দান অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্টের অবর্তমানে দেশের আইন মতো তিনি প্রেসিডেন্ট। এবার তিনি সমস্ত প্রদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে তালিবানদের প্রতিহত করার ডাক দিয়েছেন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here