Little Mermaid: বামেদের হাতে আক্রান্ত ভাস্কর্য লিটল মারমেড

0

Last Updated on March 3, 2023 8:11 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। কিস্ট্রিয়ান হ্যান্স অ্যান্ডারসনের ছোট্ট মৎস্যকন্যা আবার আক্রান্ত। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের সমুদ্রতটে দেড় মিটার উচ্চতার এই ব্রোঞ্জ কন্যাকে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে রুশ পতাকার রঙে। রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতায় গত সপ্তাহে পুতিনের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে গড়ে ওঠা জনমতের জবাবেই রুশপন্থী বাম সংগঠন এই কুকীর্তি ঘটিয়েছে বলে মনে করছে সে দেশের শিল্প মহল। এবং এটাই প্রথমবার নয়। গত ১১০ বছরে প্রায় ১১ বার আঘাত নেমে এসেছে এই নিরীহ মৎসকন্যার ওপর। কোপেনেগেন এর অন্যতম সেরা ট্যুরিস্ট আকর্ষণ এই মৎস্যকন্যাই যেন প্রতিবাদীদের প্রধান টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও মূর্তির মাথা কাটা পড়েছে,তো কখনো বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। হ্যান্স অ্যান্ডারসনের রূপকথার জনপ্রিয়তা এবং তার বিশাল ব্যাপ্তির সন্মানে ১৯০৯ সালে কোপেহেগেনের মেয়র কার্ল জেকবসন যিনি আবার বিশ্বখ্যাত কার্লসবার্গ বিয়ার কোম্পানির মালিকের পুত্র ছিলেন,তাঁর উদ্যোগে এই ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিখ্যাত ড্যানিশ ভাস্কর এডওয়ার্ড এরিকসন এই মূর্তি তৈরির দায়িত্ব নেন। ১৭৫ কেজি ব্রোঞ্জের এই আড়াই মিটারের নগ্ন মৎসকন্যার ভাস্কর্যের মোল্ড কাস্টিং বা ছাঁচের জন্য শিল্পী নিজের স্ত্রী কে ব্যবহার করেন। এবং কোপেহেগেনের রয়েল ব্যালে থিয়েটারের ব্যালেরিনার মুখের আদলে মৎস কন্যার মুখ ও চুল তৈরি হয়। ১৯১৩ সালে সমুদ্রতীরে ল্যাঙ্গেলাইন পিয়ার রক বা জাহাজ নোঙ্গর করার পাথরে স্থাপিত হয় এই ভাস্কর্য। সম্পূর্ন অরক্ষিত, নিরাপত্তাহীন, অসুরক্ষিত এই ভাস্কর্য যুগে যুগে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বামপন্থীদের মূর্তির মাথা কেটে ফেলা থেকে শুরু করে, মূর্তির হাত দু টুকরো করে ফেলা।

কেমিক্যাল রং দিয়ে মূর্তিকে রং করে দেওয়া , চুল কেটে নেওয়া,এমনকি ডায়নামাইট ফিট করে উড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিখ্যাত জাপানি ভাস্কর ও বর্তমানে ডেনমার্কের নাগরিক ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান আর্ট অ্যান্ড স্কল্পচার ফোরামের সেক্রেটারি ছেহন দাই হুকামোতো বললেন, ডেনমার্কের কোপেহেগেনের অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণ,সেলফি জোন হিসেবে বিখ্যাত এই ভাস্কর্য ও তার চারপাশ কোনও নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ নয়। বরং ক্ষমতাসীন নরম বামপন্থী প্রশাসন নিরাপত্তা সরিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে এই বার্তা দিতে চায় যে, আমরা সুরিক্ষিত এবং শান্তিতে আছি। গোটা এলাকায় কোনও ফেন্সিং নেই, সিসি ক্যামেরা চোখে পড়ে না, এমনকি দিনের বেলায় যে দুজন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন, সূর্য ডুবলেই তারা বেপাত্তা। এটা নিশ্চিত, যে ক্ষমতাসীন বাম প্রশাসনই লোক দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। বিরোধী ও জনমতের চাপে পার্লামেন্টে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য হলেও, দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে,দেশের মানুষ রাশিয়ার পক্ষেই আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here