আফগানিস্তান ভিড় সামতে বিমানবন্দরে সেনা, আফগানিস্তান কাণ্ডে বাইডেনকে সভ্য দুনিয়া একযোগে ধিক্কার জানাচ্ছে

0

Last Updated on August 17, 2021 9:05 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

খবরের সূত্র: আল জাজিরা

৩৬৫ দিন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে পরাস্ত করে জো বাইডেন গোটা দুনিয়ায় যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তালিবান অভ্যুত্থান তার ৫০ শতাংশ কেড়ে নিল। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রায় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কাবুল দখল নেয় তালিবানরা। কেন এত তড়িঘড়ি সেনা প্রত্যাহার, প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বের সব দেশ। দুই দশক ধরে আফগানিস্থানে যে সরকারকে লালন-পালন করেছে আমেরিকা তাকে এমন নিরাপত্তাহীনতায় ছেড়ে চলে যাওয়া হলো কেন? কার্যত কোণঠাসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যাম্প ডেভিডে তার অবসর যাপান কাটছাঁট করে হোয়াইট হাউসে এসে জাতির উদ্দেশ্যে তার অবস্থান জানালেন। তিনি তার অবস্থানে অবিচল থাকলেও স্বীকার করতে বাধ্য হন যে সেনা প্রত্যাহারের পর এত তাড়াতাড়ি আশরাফ গনির সরকারের পতন হবে তা তিনি অনুমান করতে পারেননি। তার সাফাই ছিল একটাই, প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগেই সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি কি পরিস্থিতি বুঝে সেই চুক্তি রদ করতে পারতেন না? এর উত্তর বাইডেন দেননি। উল্টে বলেছেন, সেনা প্রত্যাহার করা না হলে অবধারিত আবার একটা যুদ্ধ লাগত। তাহলে কেন গত বিশ বছরে যুদ্ধ বাঁধেনি, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উল্লেখ ছিল না তার এই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে।

রাজ ক্ষমা

সরকারের দখল নেওয়ার পর এখনও প্রেসিডেন্ট কে হবেন, কে দেশের প্রশাসনের গুরুদায়িত্ব সামলাবেন তা এখনো ঘোষণা করেনি তালিবানরা। সরকারিভাবে প্রথম যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে। তালিবান প্রশাসন সমস্ত সরকারি কর্মীদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তাদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তালিবানের তরফে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা করেন দলের উপ প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নেতা মোল্লা আবদুল বরাদার গনি। তবে কি তিনি দেশের প্রধান হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে দলের প্রধান ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আকুনজাদার কাছে। তালিবানদের থিংক ট্যাংকের তিনিই প্রধান। প্রশাসনের কে কোন দায়িত্ব সামলাবেন মোটামুটি আকুনজাদার সঙ্গে পরামর্শ করেই তা হবে।

আরও মার্কিন সেনা

কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য ৬০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হলো। এর আগে প্রায় ৫০০০ মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সৈনিক দেশের নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে আফগানিস্তান থেকে বের করে আনার দায়িত্বে ছিল। বিমানবন্দরের চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা এবং প্রাণহানির ঘটনার পর নতুন করে এই সেনা মোতায়েন। গতকাল এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাসপেন্ড করা হয়েছিল। অসহায় বহু মানুষ দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য আছড়ে পড়েছিলেন বিমানবন্দরে। অনেকে উড়ন্ত বিমানের মাথায়, চাকায় বসে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হন। এদিন ভোর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিমান চলাচল কিছুটা হলেও চালু হয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সি-৭ বিমানে করে কাবুল থেকে ১২০জন যাত্রীকে দেশে ফেরত নিয়ে আসা হয়।

অজানা আতঙ্ক

আফগানিস্তান জুড়ে সাধারণ মানুষ ভুগছেন এক অজানা আশঙ্কায়, আতঙ্কে। দেশে প্রথম তালিবান সরকারের স্মৃতি মোটেই মধুর নয়। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন তালিবান প্রশাসনের অত্যাধিক ধর্মীয় অনুশাসন জেরবার হয়ে গিয়েছিল। কোথাও কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে তার শাস্তি ছিল নির্মম। মহিলাদের অতি সুরক্ষার নামে তারা এক রকম ছিল বন্দিদশায়। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের আশঙ্কা আবার একটা অনুরূপ পরিস্থিতি আসতে চলেছে গোটা দেশে। সামান্য দুই দশকের গণতন্ত্র তাদের যে খোলা হাওয়ায় নিয়ে গিয়েছিল এবার তা নির্মমভাবেই কেড়ে দেওয়া হবে। যদিও কাবুল দখলদারি বর্তমান তালিবান নেতারা বলছেন গতবারের মত ভুল এবার তারা করবেন না। ফলে প্রশাসন হবে অনেক বেশি নমনীয়।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here