পুজোর বাকি ১০০ দিন, পটুয়া পাড়ায় ফিরছে চেনা ব্যস্ততা, ফিরছে অর্ডারের সারি

0

Last Updated on June 25, 2022 5:34 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। অভিশপ্ত করোনা কেড়েছিল রুজি রুটি। টানা দুবছর কেটেছে অন্ধকারে। সেখান থেকে রুপোলি রেখা দেখছে কুমোরটুলি। পুজোর বাকি আর ১০০ দিন। সেই নিয়েই চূড়ান্ত ব্যস্ত পটুয়া পাড়া। ফিরছে অর্ডারের সারি। লম্বা তালিকায় বেশ কয়েকটা নাম। স্বমেজাজে ফিরছে শহরের এই অংশ। এই প্রসঙ্গে প্রতিমা শিল্পী মন্টু জানাচ্ছেন, আগের তুলনায় অর্ডারের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা কালে মানুষ নমো নমো করে পুজো সারছিলেন, ফলে প্রতিমার আকার ছোট হচ্ছিল। বাজেটেও টান ছিল।

ফলে, মণ্ডপ থেকে সজ্জা সবই কমে এসেছিল। কিন্তু সেই তুলনায় এবার বাজার কিছুটা ভাল। প্রতিমা বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে। ফলে, কিছুটা হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। চলতি মরশুমে সরস্বতী থেকে অন্যান্য প্রতিমার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ব্যস্ত থেকেছে কুমোরটুলি শিল্পীরা। করোনাকালে কোণঠাসা হয় মৃৎশিল্পীরা। সেই সময় হঠাৎ করেই একধাক্কায় বেড়ে যায় কাঁচামালের দাম। সেই দাম বৃদ্ধিতে কার্যত কোণঠাসা হয় শিল্পীকুল।

সেই নিয়ে গণেশ চন্দ্র মাল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, ৫২ বছর ধরে যুক্ত পূর্ব পুরুষের এই ব্যবসায়। আগের মতন বাজার নেই। করোনার জন্যে অর্ডার আসছে খুব কম। গত বছরের থেকে এই বছরে অর্ডার প্রায় অর্ধেক।’ তিনি যোগ করে বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেশি। অর্ডার নেই। কোনরকমে চালাবার মত পরিস্থিতি হয় গেছে। কাঁচা জিনিসের দাম বেশি। খড়, দড়ি, পেরেক, মাটি, বাঁশ এই সবের দাম আগের থেকে দ্বিগুণের বেশি। একই অবস্থার কথা জানিয়েছেন শিল্পী প্রদীপ পাল।

তাঁর বক্তব্য, দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সাত মাস কোন কাজ ছিল না। কোন মূর্তি বিক্রি করতে পারিনি। খুব অসুবিধার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন সব কিছু চালু হয়ে গেছে। তবে আগের মতন প্রতিমা বিক্রি হয় না। অর্ডার কম, ঠাকুরের দামও কম। অথচ, লকডাউনে সব কিছুর দাম বেশি।

লকডাউন এর যাতায়াতে খরচ বেশি, তাই দামও বেশি। মূর্তির উচ্চতার মধ্যেও কাটছাঁট হয়েছে। আগে ১০-১২ ফুটের মূর্তির অর্ডার আসত, এখন ৬-৭ ফুটের মূর্তির অর্ডার আসছে।’ লকডাউন এর প্রভাবে প্রতিমা তৈরির উপকরণ বাঁশ, দড়ি, পেরেকের দাম অনেকটাই বেশি। সেখান থেকে আবারও কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here