26/11 Mumbai Attack:
মোদি সরকারের চরম ব্যর্থতায় এখনও তদন্ত হল না, ২৬/১১ মাস্টারমাইনন্ডরা পাকিস্তানে তোফা আছে

0

Last Updated on November 26, 2021 8:17 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। মুম্বাই হানার দীর্ঘ ১৩ বছর পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মমাফিক নিহতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য, তাদের পরিজনদের সান্তনা এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ২৬/১১-র বিচার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার আহ্বান করে তাদের দায় সারলো। প্রতিবছর নিয়ম করে যা করা হয়, এবারও তাই হলো। ভারত সরকারের চরম অপদার্থতায় ১৫টি দেশের ১৬৬ জন নাগরিক এখনও মৃত্যুর বিচার পেল না। এই ভয়ঙ্কর, নৃশংস আক্রমণের যারা মূলচক্রী তারা আজও তাই পাকিস্তানে অবাধে ঘুরে বেড়ায়। এই ঘটনার বিচারের জন্য চাপ দেওয়ার থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহ বজায় রাখতে অনেক বেশি আগ্রহী ভারত সরকার। সীমান্তে ছায়া যুদ্ধ করে যুদ্ধের জিগির তুলে রাখাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। যাতে বেশি করে হিন্দু ভোট ভাগ হয় এবং তাদের ভোটব্যাঙ্ক স্ফীত হয়। ২৬/১১-র হামলার যদি তারা সত্যিই বিচার চাইত তাহলে বিভিন্ন দেশের কাছে তারা এই নিয়ে দরবার করতে পারত। কিন্তু তা করেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর এমন কোনও দেশ নেই যেখানে যাননি। কিন্তু কোথাও তিনি সেভাবে ২৬/১১-র বিচারের জন্য দরবার করেননি। রাষ্ট্রপুঞ্জে করেননি, আমেরিকার কাছে করেননি, চীন, রাশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমস্ত শক্তিশালী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, কিন্তু মুম্বাই হামলার নৃশংসতার বিচার চাননি। শুধু ভারত নয় আরো ১৪ টি দেশের নাগরিক এই নৃশংস হত্যালীলার শিকার হয়েছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন পর্যটক। ভারত সরকার এদের কিন্তু শেষ বিচারের দায়িত্ব না এখনো। যেটুকু করা হয়েছে তা নিয়মমাফিক, লোক দেখানো এবং দায়সারা। বিশ্ব রাজনীতির চাপে পড়ে পাকিস্তান এই ঘটনার বিচার ব্যবস্থা শুরু করতে বাধ্য হবে এমন পরিস্থিতি তারা তৈরি করতে চায়নি। চায়নি কারণ, তিনি এই যুদ্ধের জিগিরটাকে জিইয়ে রাখতে চেয়েছেন। নির্বাচনের আগে সীমান্তে অশান্তি কেন্দ্রের শাসক দলকে সুবিধে করে দেয়। শাসকদল ভাজপা বিভাজনের রাজনীতি করে। দেশের সংখ্যালঘু এবং হিন্দু ভোট ভাগ করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভারত সরকারের এই ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে ন্যূনতম কোল্যটারাল ড্যামেজ নিয়ে এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে তাই অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে মূলচক্রীরা। পাকিস্তান তাদের আশ্রয়ও দেয়।

- Advertisement -

পাকিস্তানের লবডঙ্কা

পাকিস্তান থেকে সমুদ্র পেরিয়ে মুম্বাই এসে যারা আক্রমণ করেছিল তারা সবাই পাকিস্তানের নাগরিক। একথা স্বীকার করেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একটা সুইসাইড স্কোয়াড পাঠিয়ে ন্যূনতম কোল্যটারাল ড্যামেজ করে আজ ১৩ বছর দিব্যি বিনা বিচারে কাটিয়ে দিল সে দেশের প্রশাসন। কারণ, ভারত সরকারের কোন চাপ ছিল না। লোকদেখানো যেটুকু উল্লেখ বিচার নিয়ে ভারত করেছে তা এতই নগণ্য যে তা পাত্তা দেওয়ার কোনও কারণ মনে করেনি পাকিস্তান। তারা তাই লবডঙ্কা দেখিয়ে পায়ের উপর পা তুলে দিব্যি কাটিয়ে দিল ১৩ টা বছর। একটা কাসভের ফাঁসি হয়েছে, সে তো হবেই। যে দলটাকে শিখিয়ে পড়িয়ে পাঠানো হয়েছিল তারা তো সুইসাইড স্কোয়াড। মৃত্যু হবে জেনেই তারা এসেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বা ভারত বিরোধী মৌলবাদী সংগঠনের নেতৃত্ব কিন্তু দেশ ছেড়ে এক পাও কোথাও নড়েনি। ১৩ বছর আগে তারা যেমন ছিল আজও তেমনি আছে। যারা ঘটনার দায় স্বীকার করে তাদেরও বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হয়নি। গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কখনো জেলে ভরেনি পাকিস্তান সরকার। তারা বরাবর গৃহবন্দি থেকেছে। এবং আশ্চর্য, ভারত সরকার তার কোনও প্রতিবাদ করেনি। যে ১৪ দেশেরই নাগরিক এই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে আতঙ্কবাদীদের হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ভারত সরকারকে একবারও দেখা যায়নি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হতে। তাই কোনও চাপে কখনও পড়তে হয়নি পাকিস্তানকে। পাকিস্তানও জানে ভারতের সরকার সীমান্তে ছায়াযুদ্ধ করবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। দেশের মানুষের প্রাণের বিচার তারা কখনও চাইতে আসবে না।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here