সেনাবাহিনীতে নিয়োগে মোদি সরকারের ‘জুমলাবাজি’ ! অগ্নিপথ নিয়ে রণক্ষেত্র বিহার

0

Last Updated on June 17, 2022 5:08 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। সেনাবাহিনীতে নিয়োগে মোদি সরকারের ‘জুমলাবাজি’ আর তার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিহার। একের পর এক গাড়িতে ট্রেনে আগুন, পথ অবরোধ, ভাঙচুর। ক্ষোভের আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে রাজস্থান, মধ‍্যপ্রদেশের মত রাজ‍্যেও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সেনাবাহিনীতে নিয়োগের চিরাচরিত প্রথা তুলে দিয়ে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের মত সেনাবিহিনীতে নিয়োগ করা হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মিলবে না চাকরির নিরাপত্তা। গত মঙ্গলবার ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। রাজনাথ জানান, এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৭০০-র বেশী জেলা থেকে ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ করা হবে।

প্রাথমিক ভাবে ৪০ হাজার অগ্নিবীর নিয়োগ করা হবে। ১৭ থেকে ২১ বছরের মধ‍্যে যে কোনও ছেলে মেয়ে আবেদন করতে পারেন। পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন তাদের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি হবে। স্থল, জল, নৌ- ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে কোনও শাখায় প্রশিক্ষণের পর তাদের নিয়োগ করা হবে। মাসিক বেতন হবে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। চতুর্থ বছরে এক একটি ব‍্যাচ থেকে ২৫ শতাংশকে সেনাবাহিনীর স্থায়ী পদে নিয়োগ করা হবে। বাকিদের ১১-১২ লক্ষ টাকা দিয়ে অবসর নিতে বলা হবে। থাকবে না কোনও পেনশন। মোদি সরকারের এই প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠে গিয়েছে প্রথমত সেনাবাহিনীতে নিয়োগের যে চিরাচরিত প্রথা রয়েছে সেই প্রথা কার্যত তুলে দেবার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।

দ্বিতীয়তঃ অগ্নিপথ প্রকল্প আদতে জুমলা বাজি ছাড়া আর কিছুই নয় এমন অভিযোগ করছেন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা। তাদের প্রশ্ন সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আদৌ কতটা যথোপযুক্ত তা নিয়ে যদি কাজের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আসবে কি করে এই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন।

তৃতীয়ত চার বছর পর যাদের নিয়োগ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে 75 শতাংশ-ই ফের বেকার হয়ে পড়বে। তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই এই প্রকল্পে।

চতুর্থত যারা স্থায়ী পদের নিয়ম হবেন তারা কি অন্যান্য সেনা কর্মীদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন নাকি তাদের জন্য নতুন কোন নিয়ম তৈরি হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা নেই এমনকি তারা পেনশন স্কিম এর আওতায় পড়বেন কিনা তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মোদি সরকার। লোকদেখানো প্রকল্প এনে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ আদতে কমাতে চাইছে মোদি সরকার একইসঙ্গে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন আগামী দিনের সেনাকর্মীদের।

এই ধরনের প্রকল্প বা কাণ্ডজ্ঞানহীনতা সেরা কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন অনেকে যা আদতে দেশের সার্বিক নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর। যে সমস্ত বিষয়ে স্পষ্ট হচ্ছে না যে সমস্ত বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ সংঘটিত হচ্ছে সেই সমস্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দিন এমনই দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here