অভিষেকের স্ট্র্যাটেজিতে,
ত্রিপুরা সিপিএম ভাঙ্গন
সিপিএমের উদ্দেশ্যে ব্রাত্য তরুণ ব্রিগেড যোগদিন, বাংলার ভুল আর নয়

0

Last Updated on August 14, 2021 11:33 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

আগরতলা থেকে রিপোর্ট ও ছবি তমাল রায়


৩৬৫ দিন।‌ বাংলার ভুল ত্রিপুরায় পুনরাবৃত্তি করবেন না। শনিবার ত্রিপুরায় সাংবাদিক বৈঠকে বাম নেতাকর্মীদের তৃণমূলে যোগদানের আহ্বান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ব্রাত্যর কথায়, আপনারা আমাদের সঙ্গে চলে আসুন, আমরা সঙ্গে আছি। যদি একান্তই সমস্যা হয় প্রবীনদের, তরুণ ব্রিগেড আমাদের সঙ্গে চলে আসুন। বয়োজ্যেষ্ঠরা যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। ত্রিপুরায় আমরাই বিকল্প সরকার গঠন করব। প্রসঙ্গত, অভিষেকের নেতৃত্বে ত্রিপুরায় দলীয় সংগঠন ঢেলে সাজাচ্ছে তৃণমূল। বিপ্লব দেবের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ত্রিপুরায় গিয়ে যেভাবে অভিষেক আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে ত্রিপুরার তৃণমূল কর্মীদের মনোবল কয়েকশো গুণ বেড়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের সঠিক বিপ্লব দেবের সরকার যেভাবে গায়ের জোরে সিপিএমকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই ত্রিপুরা সিপিএমের মধ্যে একদল আর কমিউনিস্ট পার্টির ওপর আস্থা রাখতে পারছেনা। যেভাবে অভিষেক নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে যাচ্ছেন, ভুয়া মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা তৃণমূল কর্মীদের আইনত সহযোগিতা করে তাদের আদালত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন এবং প্রতিহিংসাবশত পরবর্তীতে অভিষেক সহ তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিপ্লব দেবের প্রশাসন। তারপরও ত্রিপুরায় মাটি কামড়ে পড়ে আছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কর্মীদের পাশে যেভাবে অভিষেক সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাতেই উদ্বুদ্ধ হয়েছে বাম যুব সমাজ। ত্রিপুরার সিপিএম তাদের আক্রান্ত যুব নেতৃত্বকে প্রায় ভুলে যেতে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে সিপিএমের বিরুদ্ধে। এই আবহে ব্রাত্য বসু থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় সকল নেতৃত্বরা বারবার বলে আসছেন, প্রথমে বাম সরকার দেখেছে ত্রিপুরাবাসী, তারপর রাম সরকার এবং এবার মা মাটি মানুষের সরকার দেখবে ত্রিপুরার মানুষ। শনিবার ব্রাত্য বলেন, বাংলার সিপিএম যে ভুল করেছে ত্রিপুরার সিপিএমকে সেই ভুল না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা ওখানে বিজেমূল স্লোগান দিয়ে পরে প্রত্যাহার করেছেন। এই ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। ‌ ত্রিপুরা বদলের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ‌ নতুন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন ত্রিপুরার মানুষ। বিজেপি ও তৃণমূল, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুই দল, মাঝখানে নেই কিছুই। তাই বামপন্থীদের বলছি আপনারা আমাদের সঙ্গে চলে আসুন।’ উল্লেখ্য আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগরতলা শহর ত্রিপুরার একাধিক জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে তৃণমূল প্রতিনিধি দল। পরের দিন ১৬ অগাস্ট খেলা হবে দিবস পালন করবে তৃণমূল। খেলা হবে দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরার একাধিক জায়গায় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। সংবর্ধনা দেওয়া হবে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে। এদিন ত্রিপুরায় খেলা হবে দিবসের আগে ফুটবল নিয়ে অনুশীলন করতে দেখা যায় তৃণমূলের সংসদীয় টিমকে। সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পিতা ঘোষ, আবির রঞ্জন বিশ্বাসরা ফুটবল নিয়ে হোটেলের লবির মধ্যেই অনুশীলন করেন। আর তৃণমূল কর্মীরা উচ্ছ্বাসিত ভাবে আওয়াজ তোলে, খেলা হবে, ত্রিপুরায় খেলা হবে। এবার ত্রিপুরা, তৃণমূলের এই স্লোগান এবার পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে জিতবে ত্রিপুরা। স্বাধীনতা দিবস খেলা হবে দিবসে সেই প্রতিজ্ঞাই করতে চলেছে তৃণমূল কর্মীরা। এদিন ব্রাত্য বসু সিপিএম যুবসমাজকে যেভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাতে ত্রিপুরার সিপিএমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here