সোনিয়া’র সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং মমতার, বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থা ও এজেন্সির পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনকে দিয়ে টার্গেট বাংলাকে

0
632

৩৬৫ দিন। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে প্রতিটি ভাজপা বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ জোট গঠন এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ব্যক্তিগত অথবা বিভিন্ন দলের দলগত ইগো এবং পারস্পরিক বিরোধিতা ভুলে বৃহত্তর ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে ভাজপা বিরোধিতায় এককাট্টা হতে হবে। আজ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আহ্বানে মমতার এই ফর্মুলাতে ১৯ ভাজপা বিরোধীদলের ভার্চুয়াল বৈঠকে সহমত হলেন সমস্ত দলের শীর্ষ নেতারা।এ দিন কংগ্রেস ছাড়াও ১৮ দলের নেতানেত্রীরা হাজির ছিলেন সনিয়ার ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠকে। সনিয়া গান্ধি, মমতা ছাড়াও এ দিনের বৈঠকে অংশ নেন ডিএমকে প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধ্বব ঠাকরে, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, জেডিএসের এইচ ডি দেবেগৌড়ার মতো বিরোধী নেতারা৷ এ ছাড়াও সিপিএম, সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, আরজেডি-র মতো দলগুলির নেতারাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন৷ ফলে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের ছবিটা জোরাল ভাবেই তুলে ধরা গিয়েছে বলে মত বিরোধী শিবিরের৷

- Advertisement -

মমতার প্রস্তাব

সর্বভারতীয় স্তরে সমস্ত ভাজপা বিরোধীদলকে একসঙ্গে নিয়ে বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন মমতা। গত মাসেই দিল্লি সফরে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পরে বিরোধী জোটের যে ফর্মুলা মমতা দিয়েছিলেন আজ ভাজপা বিরোধী ভার্চুয়াল বৈঠকে সেই ফর্মুলার পাশাপাশি আরো কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন মমতা। তিনি বলেন, এখন থেকে আমাদের যাবতীয় পারস্পরিক বিরোধ এবং ইগো ভুলে গিয়ে একজোট হতে হবে। ভুলে যেতে হবে বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সময় এলে দেশের মানুষ ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী পদে কে বসবেন। দেশের প্রতিটি ভাজপা বিরোধী জাতীয় এবং আঞ্চলিক দলগুলিকে এই জোটে শামিল করতে হবে। এমনকি যে সমস্ত দলের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট অথবা সদ্ভাবে নেই তাদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে হবে। বিজেপি শাসনে দেশের প্রতিটি স্ব-শাসিত এবং সাংবিধানিক সংস্থা অপব্যবহার করা হচ্ছে। এজেন্সি গুলি এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে। কেন্দ্রীয় সরকার যাতে দেশের সংবিধান মেনে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কাজ করে তার জন্য সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট হয়ে নিজেদের ইগো ভুলে এক সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি কমিটি গঠন করে আন্দোলন করতে হবে। এছাড়াও এই দিনের বৈঠকে মমতা পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের দাবিতে বিরোধীদের এগিয়ে আসার আবেদন জানান। এছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নাগরিকদের জন্য মাসিক অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্পের দাবি তোলেন তিনি।

মমতার বক্তব্যে সহমত সোনিয়া

এখন থেকে বিরোধীদের ফ্রন্ট তৈরি করতে হবে বলে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। সনিয়ার মুখেও তার প্রতিফলন চোখে পড়ল আজ। তিনি বলেন, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমাদের সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ এছাড়া কোনও বিকল্প নেই। এখন থেকে আমাদের একটাই লক্ষ্য- স্বাধীনতা সংগ্রামের নীতি এবং সংবিধানের মূল্যবোধগুলি পাথেয় করে চলবে এমন সরকার গঠন। আমাদের সকলেরই নানা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে এখন যে সময় এসেছে তাতে সকলকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে জোটবদ্ধ হতে হবে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here