কমিশনের নামে ‘ভাজপা’ কমিশন নিয়ে মামলা, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের ভাজপা নেতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সুপ্রিম কোর্টে

0

Last Updated on September 22, 2021 12:22 AM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে রাজ্য সরকারের অপদার্থতা প্রমাণ করার জন্য কেন্দ্রের ভাজপা সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদলে সক্রিয় ভাজপা নেতাদের পাঠিয়েছিল। সক্রিয় ভাজপা নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা হাইকোর্টে সত্যি ঘটনা চেপে রেখে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাত দুষ্ট রিপোর্ট পেশ করেছিল। তাই রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে সিবিআইকে দেওয়া দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হোক। লিখিতভাবে যাবতীয় তথ্য এবং পরিসংখ্যান দিয়ে সুপ্রিমকোর্টে দুই বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে হলফনামা জমা দিল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির অনিরুদ্ধ বসু এবং বিনীত সরনের নির্দেশে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার কার্যত প্রশ্ন তুলেছে, এই ধরনের অসত্য তথ্যের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, ফলে এই তদন্ত কতদূর সঙ্গত!

- Advertisement -

মিথ্যা তথ্য দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন

রাজ্য সরকার যে হলফনামা জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত কমিটি হাইকোর্টে পেশ করার রিপোর্টে দাবি করেছে, মোট অভিযোগের মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজ্য পুলিশ। কিন্তু বাস্তবে তা ৫৮ শতাংশ। রাজ্যে মোট ভোট পরবর্তী অশান্তির মামলা রুজু হয়েছে ১৪২৯টি। মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ৮১৫২। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ বা আদালতে জামিন পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫৪ জন। ২৯৮৩ জনকে নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। যার মধ্যে ১৩৫৬টি অভিযোগ ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছে। এফআইআর রুজু হয়েছে ৬৫১টি ক্ষেত্রে। এমনকী অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবেও গণ্য হয়েছে ৪০৪টি ঘটনা।

পরিকল্পনামাফিক ভাজপা নেতারা কমিটিতে

সুপ্রিমকোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় রাজ্য বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৈরি কমিটি পক্ষপাত দুষ্ট। কমিটির সদস্যদের অনেকের ভাজপার সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক রয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা দেশ থেকে বিজেপি নেতারা এসে বাংলায় বিভিন্ন রকম সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যে অশান্তি ছড়িয়েছিল ভাজপা। সেই সময়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের অধীনে ছিল। সেই বিষয়টি চাপা দেওয়ার জন্যেই আতিফ রশিদ এবং রাজুলবেন দেশাইর মতো সক্রিয় ভাজপা নেতাদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। রাজ্যের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের হাত থেকে মামলার তদন্তভার সরিয়ে নিয়ে কেন সিবিআইকে দেওয়া হল তার ব্যাখ্যা কলকাতা হাইকোর্ট দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here