উপনির্বাচনে ভাজপার ব্যর্থতার ফলেই মমতার শক্তি বৃদ্ধি, জাতীয় রাজনীতির মডেল হয়ে উঠছেন

0

Last Updated on November 5, 2021 9:30 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। গৌতম লাহিড়ী। নয়াদিল্লি। উত্তর থেকে দক্ষিণ। বাংলার সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচনে চারটি আসনে বিজেপিকে প্রায় পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়ার পর জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিসংবাদী মুখ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হল। চার উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না ঠিকই। কিন্তু ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার রেকর্ড অন্য রাজ্যে কোথাও হয়নি। পশ্চিম বাংলায় বিজেপি বরাবরই ৬ থেকে ১৪ শতাংশ ভোট পেত। একমাত্র ২০১৯ লোকসভা এবং ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে ৩৩-৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এহেন বিজেপিকে তৃণমূল কংগ্রেস ফের ১৪ শতাংশে নামিয়ে দেওয়াই প্রমাণ করে, বিজেপিকে পরাস্ত করার গোপন মন্ত্র একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জানেন। অবশ্যই এই নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতার আরও একবার ‘অভিষেক’ হল বলা যায়। সদ্যসমাপ্ত তিনটি লোকসভা ও ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়েছে ভারতের হিন্দি বলয় থেকে দাক্ষিণাত্যের তেলেঙ্গানা পর্যন্ত। এই নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণে একটাই স্বতঃসিদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, তা হল ‘হাইকমান্ড সংস্কৃতি’র অবসান, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তথাকথিত ‘আঞ্চলিক’ নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা। মোদি-অমিত শাহদের কংগ্রেসি অনুকরণে হাইকমান্ড সংস্কৃতি এবারে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। রাজস্থান-হিমাচলে কংগ্রেসের দলীয় সাফল্যের সঙ্গে সোনিয়া বা রাহুল গান্ধির কৃতিত্বের ছিটেফোঁটাও জড়িয়ে নেই। না হলে অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নেতাকে কেন হাইকমান্ড পরাস্ত করতে পারল না। এমনকি অসমে কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবনের কোনও সম্ভাবনাই এই নির্বাচন তৈরি করেনি।

- Advertisement -

বাংলার ফলাফলের পরে জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কুশলতা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। তিনি কি ম্যাজিক জানেন? আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে বিহারের তেজস্বী সফল হতে পারলেন না। অন্ধ্রে জগন রেড্ডির এখনও বিকল্প হতে পারেনি কংগ্রেস। তেলেঙ্গানায় কে সি চন্দ্রশেখর রাও ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন। নিশ্চিতভাবে মহারাষ্ট্রে এখনও শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরের প্রভাব অমলিন। তাই এই প্রথম শিবসেনা মহারাষ্ট্রের বাইরে দাদরা নগর হাভেলিতে লোকসভায় জয়ী। তবে শিবসেনার মহারাষ্ট্র-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে তেমন জাতীয় আকাঙ্ক্ষা নেই। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বিজেপি বিরোধী সাফল্য জাতীয় স্তরে যে সম্ভাবনা তৈরি করছে এতে কোনও সন্দেহ নেই।

এখনও খাতায় কলমে ইউপিএ-র নেতৃত্বে কংগ্রেস। কিন্তু নেতৃত্বের প্রশ্নে তাদের ছন্নছাড়া ভাব স্পষ্ট। এই অবস্থায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি জাতীয় বিকল্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিজেপি বিরোধিতা যদি করতেই হয়, তাহলে কংগ্রেসকে শেষ পর্যন্ত নিতান্ত বাধ্য হয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে। এটা বহু আঞ্চলিক এবং ‘গান্ধি পরিবার’ বিরোধী জি-২৩ নেতারাও মনে করছেন। সর্বভারতীয় পর্যায়ে নিছক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগ্রহী তা নয়, আদতে বিজেপি বিরোধী রণনীতি তৈরিতে তাঁর যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, এক্ষেত্রে সেটাই প্রধান অস্ত্র।

বাংলার উপনির্বাচনে কেবলমাত্র আঞ্চলিক ইস্যুতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে, তা নয়। এবারে কেন্দ্রীয় (হাফ) মন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে বিপুল ভোটে পরাজয় প্রমাণ করেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সমস্ত আসনে পরাজিত হওয়া প্রমাণ করল, আরও একবার বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি বাংলার সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যাখান করেছেন, রাজবংশী থেকে মতুয়া সম্প্রদায় পর্যন্ত। বাংলায় বিজেপির যে স্থান প্রাপ্য তাই হয়েছে এবারের উপনির্বাচনে। এই গতিবেগ যে আগামী লোকসভা ভোট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, তাতে কোনও সন্দেহ বিজেপির নিজেদেরও নেই।

এর প্রভাব যে আগামী দিনে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে পড়তে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এখন সকলেই তাকিয়ে রয়েছে আসন্ন সংসদের অধিবেশনের দিকে। এই সময়ে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে নতুন স্রোত তৈরি হবে। হয়তো জমায়েত হবেন সকল স্তরের জাতীয় নেতা। এই সংসদ অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নেতৃত্ব’র অভিষ্কে হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here