Gujarat Riots:
সুপ্রিম কোর্টের ইঙ্গিত,
খুলবে গুজরাট দাঙ্গার ফাইল

0

Last Updated on November 11, 2021 9:01 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। ২০০২ সালের কুখ্যাত গুজরাট দাঙ্গায় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে বিনা তদন্তে ক্লিনচিট দিয়েছিল তৎকালীন গুজরাট পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট একথা বলার পরেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে প্রায় দুই দশক পরে আবার খুলতে চলেছে গুজরাট দাঙ্গায় মোদি শাহের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ফাইল।
২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দেওয়ার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের রিপোর্টকে চ‍্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাকিয়া আহসান জাফরি। বারে বারে একের পরে এক আবেদনের জেরে স্থগিতাদেশের পর এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে বিচারপতি এ এম খানউইলকর, বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি সি টি রবি কুমারের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে। ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটিতে হওয়া দাঙ্গায় যে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরি। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরি এরপর থেকেই ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে। অথচ গত ২০ বছরে তিনি গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গুজরাট দাঙ্গায় চক্রান্তের অভিযোগ করেছিলেন তা পাত্তা দিতে চায়নি দেশের অধিকাংশ আদালত। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি এবং দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রভাবে পুলিশ ক্লিনচিট দিয়েছিল বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটিও।

- Advertisement -


২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট ক্লোজার রিপোর্ট জমা দিয়ে তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ ৬৩ জনকে ক্লিনচিট দিয়েছিল। সিট জানিয়েছিল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো বিচারযোগ্য প্রমাণ নেই। অথচ জাকিয়া জাফরি তাঁর আবেদনে জানিয়েছিলেন, নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রচুর প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই ক্লিনচিট দিয়েছে সিট। সুপ্রিম কোর্টে জাফরির হয়ে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের সামনে কপিল সিব্বল সওয়াল করেন, অতিরিক্ত মর্যাদা পাওয়ার জন্য বা কোনো একজনকে বিশেষ কোনো স্বার্থ সিদ্ধির জন্য দোষী সাব্যস্ত করতে এই মামলা করেননি জাফরি। তাঁর লড়াই আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক ব‍্যর্থতা নিয়ে। পাশাপাশি কপিল সিব্বলের আবেদন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছিল। আদালত যদি বিষয়টি না দেখে তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আদালতের নির্দেশের ওপর কোনো রাষ্ট্রের প্রজাতন্ত্র গড়ে ওঠে বা ধ্বংস হয়। আমি শুধু চাই বিষয়টির যথাযথ তদন্ত করা হোক। এখানে আইন-শৃঙ্খলা এবং জনগণের অধিকারের বিষয় ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁর দাবি, গুজরাটে অনেক বড় ষড়যন্ত্র হয়েছে, যার মধ্যে তৎকালীন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বহু প্রভাবশালী শীর্ষস্তরের আমলারাও জড়িয়ে রয়েছেন। গুজরাতের তৎকালীন শাসক দলের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা দিয়ে সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সামনে অন্য একটি ফাইল এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৩০০০ পৃষ্ঠার একটি ফাইলে সমস্ত প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু সেদিকে কেউ নজর দেয়নি। তাঁর প্রশ্ন, কাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে সিট?

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here