বিশ্বভারতীতে তালিবানি শাসন
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে কাটাতারের পাঁচিল বানানাের চক্রান্ত

0
1871

৩৬৫ দিন। বিশ্বভারতীতে তালাবানী শাসন চালু করতে চাইছেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে কাঁটাতার তােলার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। মাঠের চারধারে পাঁচিল তুলতে সবরকম প্রয়াস চালানাে হচ্ছে। প্রয়ােজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামতে পারে। গােটা বিশ্বভারতীকে বিজেপির মুক্তাঞ্চল বানাতে কোনওরকম কসুর বাকি রাখছেন না গেরুয়াপন্থী উপাচার্য। এদিকে, বিশ্বভারতী এবং সংলগ্ন পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। আর এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত হাইপাওয়ার কমিটির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন আইনজীবী সুভাষ দত্ত তিনি বলেন, ‘গ্রিন ট্রাইব্যনাল ও হাইকোর্ট আইনের চোখে সমমর্যাদাসম্পন্ন। পরিবেশ আদালতের কোনও রায় নিয়ে হাইকোর্ট কোন ফয়সালা দিতে পারে না। একমাত্র সুপ্রিম কোর্টই এই বিষয়ে রায় প্রদান করতে পারে। বিচারকেরা এটা ভুল করেছেন। হাইকোর্টের এই বিষয়ে কোন এক্তিয়ারই নেই। প্রসঙ্গত বিশ্বভারতী এবং সংলগ্ন মেলার মাঠে দূষণ আটকানাের জন্য প্রয়ােজনীয় রায় দিয়ে তাকেই গ্রিন ট্রাইবুনাল এই রায়ের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট আগেই রাজ্য সরকার এবং বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের বিশ্বভারতী এবং সংলগ্ন এলাকার মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু তারপরেও যেভাবে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণােদিত ভাবে চার সদস্যের হাই পাওয়ার কমিটি গঠন করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী সমিতির কোন বক্তব্য নেই সেখানে কম উচ্চতার এবং কাঁটাতারের বেড়া তৈরিতে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে, তানিয়া আজ সকাল থেকেই শান্তিনিকেতন এর সমস্ত আশ্রমিক এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।তবে মেলার মাঠ ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত যতই সুপ্রিম কোর্টের রায় বিরােধী অথবা বাংলার মানুষের আবেগের পরিপন্থী হােক না কেন, বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী চাইছেন আগামীকাল সকাল থেকেই বিশ্বভারতী এবং সংলগ্ন মেলার মাঠ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলে ১৪৪ ধারা জারি করে তড়িঘড়ি ইটের গাঁথুনি এবং কাঁটাতারের বেড়া শেষ করতে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here