ভোট হিংসার তদন্তে CBI ৪ ভাজপাকে গ্রেফতার করল

0
270

৩৬৫ দিন। কোচবিহার।

- Advertisement -

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কোচবিহারের তুফানগঞ্জের এক তৃণমূল কর্মী খুনের অভিযোগে সিবিআই গ্রেফতার করল ভাজপার চারজন সক্রিয় কর্মীকে। মূলত, ভাজপা নেতাদের কথায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একতরফা রিপোর্ট পেশ করার পরে দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনার পরে অবশেষে বাধ্য হয়ে তুফানগঞ্জের চিলাখানা এলাকায় তৃণমূলকর্মী সাইনুল ইসলাম খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে ৪ জনকে গ্রেফতার করলো সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃতরা প্রত্যেকে সক্রিয় ভাজপা সমর্থক।


একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণার পরে কোচবিহারে তৃণমূল কর্মী খুন তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশ আগেই ভাজপা কর্মীদের যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছিল। গতকাল বীরভূমের দুবরাজপুর এও ঠিক একইভাবে রাজ্য পুলিশ ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে যে ১৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই গোয়েন্দারা স্বীকার করে নিয়েছেন তারাই ঘটনায় জড়িত। এর ফলে কার্যত ভাজপা এবং ভাজপা শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করেন এই বলে যে অভিযোগ করেছিল তা মিথ্যে প্রমাণিত হলো।


কোচবিহারের ঘটনায় জানা গিয়েছে, আজ ভোর রাতে চিলাখানার দাস পাড়া সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত ভাজপা কর্মীদের গ্রেফতার করে সিবিআই। ধৃতদের নাম ঈশ্বর দাস নামের দুই ব্যক্তিকে, গোবিন্দদাস ও মিহির চন্দ্র নামে আরো দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
ধৃতদের পরিবারের লোকেরা জানান, সিবিআইয়ের আধিকারিকরা এসে তাদের ডেকে নিয়ে যায়। আমরা জেলার বিজেপি নেতাদের ফোন করা সত্বেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
গ্রেফতারের পরে সিবিআইয়ের তরফে ধৃতদের তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হলে সেখানে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বিচারকের কাছে পুলিশি হেফাজতে চাওয়া হলে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আদালত ধৃত ৪ জনকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।


বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে ভাজপা আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে সক্রিয় ভাজপা কর্মীরা তৃণমূল কর্মী সাইনুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে আগেই অভিযোগ করেছিল তৃণমূল।
নিহত সাইনুল ইসলামের পরিবারের লোকেরা বলেন, সাইনুল ইসলামের হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত সিবিআই তাদের কঠোর শাস্তি দিক। ভোটের আগে থেকেই বিজেপি নেতারা শাইনুলকে তৃণমূলের কাজ করতে নিষেধ করেছিল। তৃণমূল করলে ফল ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বিজেপি নেতারা।

ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা অন্যতম নেতা আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, যদি সঠিক ভাবে তদন্ত করে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসে ভালো। আমরা এটাই চাই। প্রসঙ্গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দুদিন পর অর্থাৎ ৪ মে বিকেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তৃনমূল কর্মী সাইনুল ইসলাম। এরপরেই ৫ই মে ভোর নাগাদ চিলাখানা এলাকায় তার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরেই একটি ক্ষেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপরেই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনায় ভাজপার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলে তৃনমূল জেলা নেতৃত্ব। যদিও ভাজপা নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে তুলেছিলেন তৃণমূল নাকি নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য তৃণমূল কর্মীকে খুন করেছে। যদিও এদিন সিবিআই গোয়েন্দাদের হাতে ভাজপা কর্মীদের গ্রেফতার হওয়ার পরে কোচবিহার জেলার ভাজপা নেতারা মুখ লুকিয়েছে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here