বক্সা পাহাড়ে কমিউনিটি হেলথ সেন্টার চালু করল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন

0
83

৩৬৫ দিন। আলিপুরদুয়ার। রাজ‍্য সরকারের উদ‍্যোগে স্বাধীনতার পর এই প্রথম স্বাস্থ্য কেন্দ্র পেল ভুটান সীমান্তে বক্সা পাহাড়ে অবস্থিত ভারতের ১৩ গ্রামের মানুষেরা। শনিবার বক্সা পাহাড়ে কমিউনিটি হেলথ সেন্টার চালু করল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। এদিন সমতল থেকে ২৬০০ ফুট উচুতে বক্সা পাহাড়ের ১৩ গ্রামের জন্য এই কম্যুনিটি হেলথ সেন্টার চালু করা হল।

এই উপলক্ষে এদিন ভোরের আলো ফোটার আগে পাহাড় চুড়ায় পৌছে যান আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা, কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন সহ বিভিন্ন জেলা ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। পায়ে হেটে এই উপলক্ষে বক্সা পাহাড়ে হেলথ সেন্টার উদ্বোধন করতে হাজির ছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রকাশ চিক বড়াইকও। জানা গিয়েছে ছয়টি বেড নিয়ে এই কম্যুনিটি হেলথ সেন্টার চালু করেছে প্রশাসন। এখানে সপ্তাহে একদিন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসবেন। এছাড়া সর্বক্ষ ন একজন আশা কর্মী ও এ এন এম নার্সেরা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকবেন।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম স্বাস্থ্য কেন্দ্র পেল আলিপুরদুয়ারের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বক্সা দুয়ার। বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন বাকে অবস্থিত তাসিগাও, চুনাভাটি, লেপচাখা, সদর বাজারের মত ১৩ গ্রামে পৌছানর এখনও একমাত্র মাধ্যম দুই পায়ে হাটা পাহাড়ি বিপদ সংকুল পথ। আর সেই পথে ঘারে করে কখনও বাশের মাচায় কখনো আবার লোহার স্ট্রেচারে কাধে করে রোগী বয়ে নিচে সমতলে নেমে চিকিতসা করান ছাড়া বক্সা পাহাড়ের মানুষের আর কোন উপায় হত না। এবার বক্সা পাহাড়ের সেই চেনা ছবির বদল হবে বলে আশায় বুক বাধছেন বক্সা পাহাড়ের মানুষেরা। মুলত ডুকপা সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই ১৩ গ্রামের বাস করেন। উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তে বক্সা পাহাড় অবস্থিত। আলিপুরদুয়ার জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি দূরে বক্সা পাহাড়। এই পাহাড়ে ১৩ গ্রামে বাস করেন প্রায় পাচ হাজার মানুষ।

এই পাহাড় চুড়াতেই অবস্থিত বক্সা দুর্গ। এই দুর্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বন্দীদের আটক করে রেখেছিলেন ইংরেজরা। এই দুর্গে বেশ কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামিকেও বন্দী করে রেখেছিলেন ইংরেজরা। একসময় এই দুর্গ থেকে ইংরেজরা ভুটান রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। সেই সময় বক্সা ছিল একটি সদর এলাকা। পরবর্তিতে বক্সা থেকে আলিপুরদুয়ারে সদর অফিস স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু এখনও বক্সা পাহাড়ের ১৩ গ্রামের মানুষেরা দুর্গম এলাকায় বাস করেন। পাহাড়ি বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা অসুস্থ্য হলে তাদের বাশের মাচা বা বাশের দন্ডে কাপড় বেধে ঘারে করে প্রায় ৫ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পার হয়ে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। স্বাধীন ভারতে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে সময় লাগল ৭৩ বছর।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here