ঝাড়গ্রামে হাতির হামলায় মৃত তিনজন, আহত দুজন , তাই ঝাড়গ্রামের দুবরাজপুর মোড়ে বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দাদের পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ

0

Last Updated on August 25, 2022 6:55 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। বুধবার রাতে ঝাড়গ্রাম শহরে হাতির হামলার ঘটনায় মৃত্যু হল তিনজনের ,গুরুতর আহত হয়েছে দুজন। মৃত তিনজনের মধ্যে ভূষণ মাহাতোর বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহর লাগুয়া দরখুলি গ্রামে, তার বয়স ২৫ বছর । মৃত রামেশ্বর বাস্কের বয়স ৬৫ বছর ,কন্যাডোবা গ্রামে তার বাড়ি।মৃত দেবী মন্ডল এর বয়স 45 বছর, তার বাড়ি ঝাড়গ্রাম পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এর বেনাগেড়িয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে বুধবার রাত নটা নাগাদ একটি হস্তি শাবক সহ তিনটি হাতি ঝাড়গ্রাম শহরের উপকন্ঠে কন্যাডোবা এলাকায় পৌঁছায়। ওই এলাকা দিয়ে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন কয়েকজন।

আচমকা কাজুবাগান থেকে বেরিয়ে পড়ে হস্তি সাবক সহ তিনটি হাতি। রামেশ্বর বাস্কে, ভূষণ মাহাতো সহ তিনজনকে সুঁড় দিয়ে ছুড়ে পা দিয়ে পিষে দেয় হাতি । তাদের কে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রামেশ্বর ও ভূষণকে মৃত বলে ঘোষণা করে। সনু ঘোষ নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক তার চিকিৎসা চলছে।

তাড়া খেয়ে হাতি গুলি ঝাড়গ্রাম শহরের বেনাগেড়িয়া এলাকায় ঢুকে পড়ে। বাড়ির উঠোনে বসে গল্প করছিলেন 45 বছর বয়সী দেবী মন্ডল ।বাড়ির লাগুয়া ঝোঁপ থেকে হাতি বেরিয়ে পড়তেই পরিজনরা পালিয়ে যান । দেবীকে আছড়ে মারে হাতি। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। একসঙ্গে হাতির হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ও দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে দুবরাজপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ।

যার ফলে ঝাড়গ্রাম জামবনি, ঝাড়গ্রাম চন্দ্রি রুটের সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি বারবার হাতির হামলায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। শহরের মধ্যে ঢুকে হাতি তাণ্ডব চালাচ্ছে । খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে লোকালয় চলে আসছে হাতি। কিন্তু বন দপ্তর চুপ করে বসে রয়েছে । তাই হাতি সমস্যার সমাধানের দাবিতে এবং যাদের হাতির হামলায় প্রাণ গেছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবিতে গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে।

প্রশাসনের আধিকারিকরা গিয়ে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিলে গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ তুলে নেবেন। তা না হলে লাগাতার অবরোধ চলবে বলে গ্রামবাসীরা জানান।

অবশেষে ঝাড়গ্রাম মহকুমার পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন। ঝাড়গ্রাম মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এর কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা নাগাদ তুলে নেন ক্ষুদ্র গ্রামবাসীরা । এরপর ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here