সৌরভ ভার্সেস কোহলি
গাভাস্কার থেকে কপিল দেব সকলেই চাইছে মুখ খুলুক সৌরভ

0
196

৩৬৫ দিন। বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির বিস্ফোরক অভিযোগের জবাব দেওয়া উচিত সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির। এমনটাই চাইছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার থেকে কপিল দেব নিখাঞ্জ পর্যন্ত সবাই। গতকাল সৌরভ কোহলির অভিযোগের কোনও উত্তর দেননি। তার উত্তর ছিল, নো কমেন্টস। যা বলার বিসিসিআই বলবে। অনেকের কাছে এই উত্তর হুমকির মতো লেগেছিল। বিশেষ করে দেশের কোহলি ভক্তরা যারা এমনিতেই সৌরভের উপরে চটে আছে, তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। গাভাস্কারের বক্তব্য, বোর্ডের তরফে কেন? সৌরভ যখন টি-টোয়েন্টি থেকে কোহলিকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, তখ ন যেমন ব্যক্তিগতভাবে করেন, এক্ষেত্রেও উত্তরটা দেওয়া উচিত সেই ব্যক্তিগত স্তরেই। তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যে আর কোনও বিভ্রান্তি থাকেনা। অতীতে বিভিন্ন সময় সৌরভ বিরাট কোহলির খারাপ সময় তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সুপরামর্শ দিয়েছে। এক্ষেত্রেই বা তা হবে না কেন। ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে কোহলি বলেছেন, না ছাড়ার ব্যাপারে অনুরোধ দূরের কথা, তাঁর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিসিসিআই ভালোভাবেই নিয়েছিল। পাশাপাশি কোহলি এ-ও দাবি করেন, তাঁকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরটি জানানো হয় বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সভার দেড় ঘণ্টা আগে। এদিকে কোহলির এসব দাবি অস্বীকার করে ইন্ডিয়া টুডেকে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা তাকে জানাইনি, বিরাট কোহলি এটা বলতে পারে না। সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে কথা বলে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে না করা হয়েছিল। যখন সে নিজে থেকেই ছেড়ে দিল, সাদা বলে দুজন অধিনায়ক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল আমাদের পক্ষে।পরিস্থিতি এখন বেশ ঘোলাটে। কার কথা সত্য, কার কথা মিথ্যা;তা বোঝা দায়।

ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার তাই দুই পক্ষের কথার এমন অমিলের ব্যাখ্যা চেয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলীর কাছে। তিনি যেহেতু বিসিসিআইর সভাপতি, ভারতীয় ক্রিকেটে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। তাঁর পক্ষ থেকেই এ জটিলতা খোলাসা করা উচিত বলে মনে করেন গাভাস্কার। এদিকে কপিল দেবের আশঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে এই বিভ্রান্তি দলের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এমনিতেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কোনদিন জিতে আসবে পারেনি ভারত। এখন যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, দুপক্ষ যদি তাদের জেদ নিয়ে বসে থাকে, সৌরভ যদি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে ভুগতে হবে ভারতীয় ক্রিকেটকেই। যা একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়। ওদিকে জুমকলে সৌরভ, জয় শাহ সহ বোর্ডের অন্য প্রথম সারির কর্তারা বিরাট কোহলির অভিযোগ নিয়ে কাটাছেঁড়া করে, এখন কিছুটা ব্যাকফুটে। তাই এখনই কোনও প্রেস রিলিজ বা প্রেস কনফারেন্স না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। যদি কোনও মন্তব্যে জল আরও ঘোলা হয়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তার প্রভাব পড়বেই। এবং, তার দায় এড়াতে পারবে না ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতিসহ কোনও কর্তাই। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাহলে কে ঠিক? কে সত্যি কথা বলছে আর, কে মিথ্যে? এতদিন ধরে তিল তিল করে তৈরি রূপকথার গল্পের মত দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক যে আসলে গল্পকথায়খ তা দেশের ক্রিকেট ভক্তরা টের পেলেন। অতীতেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। ছেঁড়া কার্পেটের তলায় লুকিয়ে রাখা ছিল সযত্নে। কপিল দেব একবার এক সাক্ষাৎকারে গল্পের ছলে বলেছিলেন, গাভাস্কার ছিলেন তার থেকে সাত বছরের সিনিয়র। গাভাস্কারের হাত থেকে অধিনায়কত্ব তুলে নিয়ে তাকে যখন ক্যাপ্টেন করে দেওয়া হলো তখন তার সেই ম্যাচিউরিটি আসেনিখ। ম্যাচিউরিটি যখন এলো, গেম রিডিং -এ তিনি যখন যথেষ্ট পটু, তখন তার থেকে ক্যাপ্টেন্সি কেড়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় গাভাস্কারকে। কপিল আজও জানেনা কেন এমনটা ঘটলো। গাভাস্কারের কাছেও অজানা। তবে এরা দুজনের কেউই তখনকার সভাপতির কাছে কিছু জানতে চাননি। কেউ ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। পুরোটাই লুকিয়ে রেখে ছিলেন ওই ছেঁড়া কার্পেটের তলায়। জামানা বদলে গিয়েছে। সভাপতি তার খেলার জীবনে এমন দাদাগিরি অনেক করেছেন। এবার দিল্লির লাফাঙ্গার পাল্লায় পড়ে কোণঠাসা দশা। বাঙালির অতি প্রিয় দাদার দাদাগিরি যায় যায় অবস্থা। বিরাটের ফ্যানবেস বিরাট। তারা সব দাদার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মিথ্যেবাদী মিথ্যেবাদী বলে বিরাট ট্রোল করতে শুরু করেছে। কারণ, ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে অধিনায়ক স্পষ্ট বলেন, বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছিল।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here