সব গুজবের অবসান ঘটিয়ে প্রসেনজিতের ঘােষণা রাজনীতিতে নেই

0
605

মুখ চাই, মুখ

- Advertisement -

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ফাউন্ডেশনের অন্যতম কর্মকর্তা রাজ্য ভাজপার নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলি মঙ্গলবার প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে অমিত শাহ’র লেখা একটি বই উপহার দেন।

৩৬৫ দিন। মুখ চাই, মুখ। বারে বারে তিনবার। বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রজেক্ট করার জন্য হন্যে হয়ে একটা মুখ খুঁজে বেড়াচ্ছেভাজপা। তার জন্যই গত রাতে হঠাৎ করে প্রসেনজিতের বাড়িতে পৌঁছে যান ভাজাের প্রতিনিধি। বিজেপি রাজ্য নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলী প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে অমিত শাহ-এর উপরে লেখা একটি বই তুলে দেন তাঁর হাতে। তারপর থেকেই বাংলার রাজনীতি থেকে শুরু করে টলিউড সর্বত্র একটাই আলােচনা ঘুরে বেড়াচ্ছে-বুম্বাদা কি ভাজপায় যােগ দিচ্ছেন! দুপুরে যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন প্রসেনজিৎ নিজেই। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তিনি ভাজপায় যােগ দিচ্ছেন বলে যে খবর এবং জল্পনা প্রকাশিত হচ্ছে, সেই সম্পর্কে প্রসেনজিৎ’এর বক্তব্য, একটাই কথা মনে হচ্ছে; কলকাতার সংবাদমাধ্যম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে চিনতে এত ভুল করল? এতটাই! বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আসছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই রাজনীতিতে যােগ দিচ্ছেন। সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু দয়া করে এর মধ্যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে টানবেন না। সকাল থেকে ফোনের পর ফোন পেতে পেতে মনে হচ্ছিল, সংবাদমাধ্যম কিপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর তাদের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাসটা হারিয়ে ফেলছে? তারা কি জানে না, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যদি কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটা বুক ফুলিয়ে সকলের সামনে ঘােষণা করবে? একজন অভিনেতা এবং সিনিয়র শিল্পী হিসাবে কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুই সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরােধ; সিনেমাটা বাঁচাও! ঋত্বিক ঘটক, সত্যজিৎ রায় যে ভাষার ছবি তৈরি করে গিয়েছেন, সেই ভাষার সিনেমাকে বাঁচাও। আর দু’পক্ষ একনা হলে কিন্তু সিনেমাকে বাঁচানাে যাবে না। এটা কারও একার কাজ নয়। কোনও একপক্ষের কাজ নয়। এটা কেউ ভাবছেও !বলছেও না! আর তেমন ভাবে বলবেও না বােধহয়। দ্বিতীয় কথা; আমার কাছে যে কেউ যে কোনও সময় আসতেই পারেন। মঙ্গলবার যেমন বিজেপি নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলী এসেছিলেন। দারুণ মানুষ। আমার তাে ওঁকে খুব ভাল লেগেছে। আমাকে বই উপহার দিলেন। উনি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। পরিচয়ের পরিসর বাড়াতে এসেছিলেন। উনি কিন্তু আমায় কিনতে আসেননি। আমার থেকে কিছু চাইতেও আসেননি। কলকাতায় এলে বহু মানুষ তাে দেখা করতে চাইবেনই। সেটা নিয়ে গল্প লিখতে বসলে তাে মুশকিল! একটু তাে ভেবে লিখতে হবে! বলে দেওয়া হচ্ছে প্রসেনজিৎ ভাজপায় যােগ দেবেন! এর মানেটা কী? একবার ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি জানতেন, আমি এমন একজন মানুষ, যার ডাকে সকলে আসবে আমার বাড়িতে। তাই বৈঠকটা আমার বাড়িতে হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বাড়ি এসেছিলেন মানেই কি আমি তৃণমূলে যােগ দিয়েছি? নাকি যােগ দিয়েছিলাম? একটু ভাবুন। একটু বুঝুন। তারপরে যা বলার বলুন। এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক। দেখা হলেই কথা হয়। কই, তার জন্য তাে আমায় তৃণমূলে যােগ দিতে হয়নি! যাঁর যে রাজনৈতিক মতাদর্শই থাক, আমার বাড়িতে সকলের জন্য দরজা খােলা। এবার বিজেপি প্রসঙ্গে আসি। বিজেপি-র বড় মহল অবধি জানে, রাজনীতির বিষয়ে আমার মত কী। গত ১০ বছরে সুযােগ থাকা সত্ত্বেও আমি যখন রাজনৈতিক দলে যােগ দিইনি, তখন এখনও দেব না। দাহাই আপনাদের, এবার আমার রাজনৈতিক দলে যােগদান নিয়ে জল্পনা বন্ধ করুন। আর যা-ই হােক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কোনও রাজনৈতিক দলে যােগ দেবে না। জেনে রাখুন। বিশ্বাস করতে শিখুন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here