হরে কৃষ্ণ হরে হরে
নােট ঢুকছে ঘরে ঘরে

0

Last Updated on March 4, 2021 9:05 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। নেতাজী জন্ম জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হোক অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্মেলন – যেখানে সেখানে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে বাংলার পাশাপাশি দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভাজপা। তাই বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কৌশল বদলে জয় শ্রীরাম স্লোগান-এর পরিবর্তে হরে কৃষ্ণ হরে রাম স্লোগান তুলে বাংলার গ্রামাঞ্চলে জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাজপা রাজ্য কমিটি। সেই কারণেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় হরিনাম সংকীর্তনের আসর বসানোর ছলে ভাজপা গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের জন্য জেলাস্তরে টাকা পাঠিয়ে ডিজে এবং মাইক বাজিয়ে লোকের মধ্যে হিন্দুত্ববাদী ধারণাকে উস্কে দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ভাজপার রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন অথবা পুলিশের অনুমতি না নিয়েই সারারাত ধরে ডিজে বাজিয়ে হরিনাম সংকীর্তন এর আসর বসালে তৃণমূল নেতারা অথবা পুলিশের তরফে তা বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হলে, মমতার সরকারকে হিন্দু বিরোধী তকমা দেওয়ার সুবিধে হবে বলে মনে করছেন ভাজপা নেতারা। বাংলার ভাজপা নেতাদের মতে, বাঙালি রাম ততটা খায় না। কিন্তু কৃষ্ণ খায়। অথবা হরেকৃষ্ণ। রামের কথা বলার পাশাপাশিই আমাদের কৃষ্ণ, হরি, বিষ্ণুকেও আনতে হবে। বাঙালি রামের চেয়ে কৃষ্ণকে বেশি চেনে। এই সত্যটা মেনে নিতে হবে। এই স্লোগানের সঙ্গে গ্রামের মানুষ একাত্ম বোধ করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। সেই কারণেই ভাজপা বাঙালির কাছে রামের পাশাপাশি কৃষ্ণকে আনছে। ভাজপাতে যোগ দেওয়ার আগে নিজস্ব স্লোগান বেঁধেছিলেন শুভেন্দু। যোগদানের পর থেকে সেটিই প্রতিটি সভায় তাঁর বাঁধা লব্জ হয়ে গিয়েছে। ভাজপার সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, নব্য ভাজপা নেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে গতকাল বাংলায় ভাজপার নির্বাচনী প্রচারে আসা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পর্যন্ত জোর দিয়েছেন হরেকৃষ্ণ হরেরাম স্লোগান-এর উপরে।

- Advertisement -

কৈলাশের কীর্তন,পাম্পে মােদি

নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল

৩৬৫ দিন। ভাজপার বহিরাগত নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। মঙ্গলবার শহীদ মিনার ময়দানে ভাজপা-র শিল্পী সমাবেশ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কীর্তন শিল্পীদের ভাতা বৃদ্ধির ঘােষণা করেন কৈলাশ বিজয়বর্গী, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের বিধিকে লংঘন করে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে কৈলাস বিজয়বর্গীর বিরুদ্ধে এমসিসি লংঘন করার অভিযােগ দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে পেট্রলপাম্পে এবং করােনার ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির ছবি টানিয়ে রেখে ভােটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে ভাজপা সরকার, এর বিরুদ্ধেও কমিশনের কাছে অভিযােগ দায়ের করা হয়। এদিন সকালে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সন্দ্বীপ বক্সী, দেবলীনা বিশ্বাস কলকাতার নির্বাচন কমিশনের দফতরে হাজির হন। কমিশনের কাছে অভিযোেগ দায়ের করার পরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, টিভিতে আমরা দেখেছি, কৈলাশ বিজয়বর্গী গতকাল এক অনুষ্ঠানে যােগ দেন। সেখানে খােল করতাল বাজানাে হচ্ছিল। ওখানে গিয়ে তিনি তাদের ভাতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন। ভােটের দিনক্ষণ ঘােষণা হওয়ার পরে কী করে একটি দলের নেতা এ কথা বলতে পারে? আশা করি আমরা সুবিচার পাব, আশাকরি বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন প্রভাবিত হবে না। একইসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটে কেন থাকবে? এটা আসলে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করা হচ্ছে। সরকারি প্রশ্রয় এই কাজ কেন করা হবে?অনেক পেট্রোল পাম্প আছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রয়েছে। সেগুলিও আমরা সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি কমিশনের কাছে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here